পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্যান্য রাজ্যে কোম্পানি স্থানান্তর: এক নজরে পরিসংখ্যান ও বাস্তব চিত্র

ভাই… কি অবস্থা চলছে পশ্চিমবঙ্গ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ, এরকমটা ভাবা যায়? কোনো দিন কল্পনা করেছিলে পশ্চিমবঙ্গের এই হল হবে? বলছি যে আজকাল যেরকম বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড যা অবস্থা মানে এ ওকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে সে তাঁকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে এইগুলো খুব কমন ব্যাপার হয়ে গেছে লোকজন বিশেষ ভাবে পাত্তা দেয় না। এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। এর পর হলো রাজ্য সরকারের দেওয়া চাকরি সেটাও চলে যেত লাগলো এরও আর কোনো গ্যারান্টি নেই। তাই বলে পটাপট বেসরকারি কোম্পানি গুলো পর্যন্ত রাজ্য ছেড়ে পালাবে! আঙ্গে ইয়েস ঠিকই শুনছো। পশ্চিম বঙ্গে যে শিল্প ডকে উঠেছে সেটা তো জানো, কাজ কর্ম নেই, সাধারণ মানুষকেও অন্য রাজ্যে যেতে ইচ্ছে কাজের জন্য। রাজ্যের ঠিক কতোটা বেহাল দশা হলে এই পরিস্থিতি দাঁড়ায় সেটাই বলতে চলেছি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে। সব মিলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে।



Infographic showing company migration from West Bengal to other Indian states between 2011 and 2025, featuring a total of 6,688 companies and destinations like Maharashtra and Delhi.

Source: Ministry of Corporate Affairs, Times of India, New Indian Express, ছবি গুগল জেমিনাই.

ভারত সরকারের কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের রিসেন্ট পোস্ট করা একটি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি তাদের নিবন্ধিত কার্যালয় দেশের অন্যান্য রাজ্যে স্থানান্তর করেছে। এই পরিসংখ্যান রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।



ঠিক কতগুলি কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্য রাজ্যে চলে গেল?



মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ১লা এপ্রিল ২০১১ থেকে ৩১শে মার্চ ২০২৫—এই সময়সীমার মধ্যে মোট ৬,৬৮৮টি কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে তাদের নিবন্ধিত অফিস স্থানান্তর করেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের মধ্যে কোম্পানি স্থানান্তরের হার ছিল সর্বাধিক। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষেই সর্বোচ্চ ১,০২৭টি কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে।


পরবর্তীতে অবশ্য এই প্রবণতায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২০-২১ অর্থবর্ষের পর থেকে কোম্পানি স্থানান্তরের সংখ্যা কমে এসে বছরে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় গতি কমলেও স্থানান্তর পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।


কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে, ‘হেডকোয়ার্টার’ বা সদর দপ্তর শব্দটি কোম্পানি আইনের অধীনে আলাদা করে সংজ্ঞায়িত নয়। সেই কারণে কোম্পানির সদর দপ্তর সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট বা পৃথক তথ্য সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। শুধুমাত্র নিবন্ধিত কার্যালয় স্থানান্তরের তথ্যই এখানে বিবেচনায় আনা হয়েছে।



পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোম্পানী গুলি কোথায় শিফট করলো? 



কোম্পানিগুলির স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দিল্লি ও মহারাষ্ট্র ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। তথ্য অনুযায়ী,


মহারাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয়েছে ১,৩০৮টি কোম্পানি,


দিল্লিতে গিয়েছে ১,২৯৭টি কোম্পানি।



এছাড়াও অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্য রাজ্যের মধ্যে রয়েছে—


  • উত্তরপ্রদেশ: ৮৭৯টি কোম্পানি


  • ছত্তিশগড়: ৫১১টি কোম্পানি


  • গুজরাট: ৪২৩টি কোম্পানি



জেলা পরিবর্তনকারী কোম্পানিগুলির মধ্যে অধিকাংশই ছিল তালিকার বাইরে (unlisted)। বিশেষ ভাবে বললে সেই সংখ্যাটি হলো ৬,৫৭৮। এতগুলো কোম্পানি ছিল তালিকার বাইরে, খুব কম সংখ্যক কোম্পানি ছিল সেই তালিকায় মাত্র ১১০টি (listed) কোম্পানি। এই তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত হওয়ার তথ্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির স্থানান্তরের সময়কার অবস্থার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে।


এছাড়া মন্ত্রক জানিয়েছে, সিকিম রাজ্যে কোম্পানি আইন ২০১৩ প্রযোজ্য নয়, ফলে সেখান থেকে কোম্পানি স্থানান্তর সংক্রান্ত কোনো তথ্য এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।



এতগুলো কোম্পানী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে কেন চলে গেছে? (গভীর বিশ্লেষণ)


বেশ কিচ্ছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিগুলো চলে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:


  • নীতির মধ্যে স্থিরতার অভাব (Policy Instability): ব্যবসায়িক নিয়মকানুন বা সরকারি নীতি ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়া বা স্পষ্ট নীতির অভাব। স্থিরতা ছাড়া কোনো কিছুই বেশিদিন থেকে না এটা বাস্তব।

  • বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব (Lack of Investor Confidence): নতুন করে টাকা বিনিয়োগ করার মতো নিরাপদ পরিবেশ খুঁজে না পাওয়া। ফলে গ্রোথ আসবে না।

  • সুশাসনের অভাব (Poor Governance): প্রশাসনিক জটিলতা বা ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার অভাব। যেটা আমরা কমবেশি প্রায় সকলেই জানি।

  • উন্নত পরিবেশের খোঁজ: মহারাষ্ট্র বা দিল্লির মতো রাজ্যগুলো ব্যবসা করার জন্য আরও সহজ এবং উন্নত পরিকাঠামো (Infrastructure) দিচ্ছে বলে কোম্পানিগুলো মনে করেছে।

  • দুর্নীতি (Corruption): বিভিন্ন দিকে অতি মাত্রায় দুর্নীতি শুরু হয়েছে যার জন্য কোনো কিচ্ছু চিন্তা মুক্ত ভাবে করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

  • কর্মীর অভাব (Lack of Employment): এই রাজ্যে লেবার থেকে শুরু করে অফিস কর্মী সহ অন্য রাজ্যের তুলনায় মাইনে কম, ফলে চাকরি থেকে শুরু করে কনস্ট্রাকশন লেবার সকলেই অন্য রাজ্যে যায়।




কোম্পানীগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ার ফলে রাজ্যের কি কি প্রভাব পড়তে পারে?


যখন একটি রেজিস্টার্ড অফিস (Registered Office) অন্য রাজ্যে চলে যায়, তখন তার কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটার একটা সংক্ষিপ্ত উদাহরণ দিচ্ছি, ধরো কোনো পরিবারের কোনো খাটিয়ে মানুষ হটাৎ করে অক্ষম হয়ে যায় সে ক্ষেত্র যে প্রভাব ওই পরিবারে মধ্যে পড়বে রাজ্যের ক্ষেত্রেও ঠিক একই প্রভাব পড়বে। চলো আমি বলছি তথ্য ও সংবাদ মাধ্যম এবং আমার করা এনালাইসিস এর দ্বারা যেটা পাওয়া যায় সেটা এখানে দিচ্ছি:


  1. রাজ্যের ক্ষতি: ওই কোম্পানিগুলো এখন যে রাজ্যে গেছে, সেখানে ট্যাক্স বা কর দেবে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ বড় অংকের মুনাফা হারাচ্ছে।
  2. কর্মসংস্থান: অফিস চলে যাওয়ার মানে হলো স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ কমে যাওয়া।
  3. ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ: যখন এত বিপুল সংখ্যক কোম্পানি রাজ্য ছাড়ে, তখন নতুন কোনো বড় কোম্পানি ওই রাজ্যে বিনিয়োগ করতে ভয় পায়।
  4. অনাহার: কর্ম সংস্থান না থাকলে মানুষ দু বেলা ঠিক মত খেয়ে পরে বাচঁতে পারবে না।
  5. অপরাধ বেড়ে যাওয়া (Growth of Crime): নিম্ন মধ্যবিত্ত মনুষের মধ্যে চুরি ছিনতাই এর হার বৃদ্ধি পাবে।



মধ্যা কথা এই পরিসংখ্যান পশ্চিমবঙ্গের কর্পোরেট পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও ব্যবসা ও শিল্পের সুযোগ নিয়ে নতুন করে চিন্তা ভাবনার পরিস্থিতি তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে রাজ্যের নীতিগত সিদ্ধান্ত, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশের উপর। এর সঙ্গে আমাদেরও কিচ্ছু দায় দায়িত্ব থেকে যেমন দুর্নীতি করা এবং সম্বোধন করা থেকে দূরে থাকা। প্রতিবেশী রাজ্যের উন্নতি দেখে শেখা ইত্যাদী।



সোর্সে

 


আরোও পড়ুন